সর্বশেষ আপডেট: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ · জনপ্রতি, ঢাকা থেকে, অফ-সিজনে।

"বিদেশ ঘুরতে অনেক টাকা লাগে।" আসলে সবসময় না। বিমান ভাড়াসহ জনপ্রতি ৳৭০,০০০ হাতে থাকলেই ভালো একটা ট্রিপ হয়ে যায়। শুধু ঠিক দেশ আর ঠিক সময়টা বেছে নিতে হবে।

নিচে তিনটা দেশের আনুমানিক খরচ দেওয়া হলো। বিমান ভাড়া প্রতিদিন ওঠানামা করে, তাই এগুলোকে কোটেশন না ধরে বাস্তবসম্মত রেঞ্জ হিসেবে দেখুন। হিসাবটা এভাবে করা: ৪–৮ সপ্তাহ আগে কাটা অফ-সিজনের রিটার্ন টিকিট, দুজনে শেয়ার করা পরিষ্কার বাজেট হোটেল, লোকাল খাবার আর পাবলিক ট্রান্সপোর্ট, এবং ১ ডলার ≈ ৳১২২।

নেপাল: সবচেয়ে সহজ (৫–৬ দিন)

প্রথমবার বিদেশ গেলে নেপাল সেরা পছন্দ। ফ্লাইট ছোট, আর বছরের প্রথম ভিসাটা ফ্রি, এয়ারপোর্টেই পাওয়া যায়। কাঠমান্ডু আর পোখারা মিলিয়ে পুরনো মন্দির, লেক আর অন্নপূর্ণার উপর সূর্যোদয়, সবই দেখা হয়ে যায়।

খাতআনুমানিক ৳
ঢাকা–কাঠমান্ডু রিটার্ন টিকিট২৫,০০০ – ৩২,০০০
ভিসা০ (বছরের প্রথম ভিজিটে)
হোটেল, ৫ রাত, শেয়ারে৯,০০০ – ১৩,০০০
পোখারা যাওয়া-আসার ট্যুরিস্ট বাস২,৫০০ – ৩,৫০০
খাবার, ৬ দিন৭,০০০ – ৯,০০০
সারাংকোটের সূর্যোদয়, ফেওয়া লেকে নৌকা৪,০০০ – ৬,০০০
মোট≈ ৪৭,৫০০ – ৬৩,৫০০

সম্ভবত কিছু টাকা বেঁচে যাবে। সেটা দিয়ে পোখারায় প্যারাগ্লাইডিং বা ছোট একটা পুন হিল ট্রেক করে আসুন (আমাদের নেপাল ট্রেকিং গাইড দেখুন)।

থাইল্যান্ড: ব্যাংকক আর পাতায়া (৪–৫ দিন)

ভিসা আর একটু বেশি ভাড়ার কারণে থাইল্যান্ডে নেপালের চেয়ে খরচ বেশি। তবে ঢাকা–ব্যাংকক রুটে প্রতিযোগিতা অনেক, আর পৌঁছানোর পর দেশটা সস্তা। স্ট্রিট ফুড, BTS/MRT ট্রেন আর পরিষ্কার বাজেট হোটেলে দৈনিক খরচ কম থাকে। তবে আগে থাইল্যান্ড ই-ভিসা করে নিতে হবে।

খাতআনুমানিক ৳
ঢাকা–ব্যাংকক রিটার্ন টিকিট, অফ-পিক৩০,০০০ – ৪০,০০০
ই-ভিসা, ফি আর কাগজপত্র৫,০০০ – ৭,০০০
হোটেল, ৪ রাত, শেয়ারে৮,০০০ – ১১,০০০
ব্যাংকক–পাতায়া যাওয়া-আসা১,৫০০ – ২,৫০০
খাবার, ৫ দিন৫,০০০ – ৭,০০০
মন্দির, রিভার বোট, কোরাল আইল্যান্ড৪,০০০ – ৬,০০০
মোট≈ ৫৩,৫০০ – ৭৩,৫০০

রেঞ্জের উপরের দিকটা ৭০ হাজার একটু ছাড়িয়ে যায়। বাজেটের মধ্যে থাকার উপায় হলো সময় বাছাই: মে-র মাঝামাঝি থেকে সেপ্টেম্বরে ভাড়া সাধারণত সবচেয়ে কম থাকে, আর ডিসেম্বরে সবচেয়ে বেশি।

মালয়েশিয়া: কুয়ালালামপুর আর এক দিনের ট্রিপ (৪–৫ দিন)

KL খুব সহজ একটা শহর। ঢাকা থেকে প্রচুর ফ্লাইট, সবখানে হালাল খাবার, মেট্রো ঠিকঠাক চলে, আর অনেক দেখার জায়গা ফ্রি: KLCC পার্ক থেকে পেট্রোনাস টাওয়ার, বাতু কেভস, মারদেকা স্কয়ার। সাথে একদিনে গেন্টিং হাইল্যান্ডস বা মালাক্কা ঘুরে আসুন।

খাতআনুমানিক ৳
ঢাকা–কুয়ালালামপুর রিটার্ন টিকিট৩০,০০০ – ৪০,০০০
ই-ভিসা, ফি আর কাগজপত্র৫,০০০ – ৭,০০০
হোটেল, ৪ রাত, শেয়ারে৮,০০০ – ১১,০০০
LRT, Grab আর ডে ট্রিপ৩,০০০ – ৪,৫০০
খাবার, ৫ দিন৫,০০০ – ৭,০০০
KL টাওয়ার বা অ্যাকোয়ারিয়া, গেন্টিং কেবল কার৩,০০০ – ৫,০০০
মোট≈ ৫৪,০০০ – ৭৪,৫০০

তাহলে কোনটা?

প্রথম বিদেশ ভ্রমণ, বা বাজেটের অনেক নিচে থাকতে চাইলে নেপাল। শপিং, খাবার আর সমুদ্র চাইলে থাইল্যান্ড, তবে অফ-সিজনে যাবেন। পরিবার নিয়ে খাবারের দুশ্চিন্তা ছাড়া শহর ঘুরতে চাইলে মালয়েশিয়া।

৭০ হাজার টাকায় আরও বেশি ঘোরার ৭টি উপায়

  1. ৬–৮ সপ্তাহ আগে টিকিট কাটুন, আর তারিখে একটু নমনীয় থাকুন।
  2. ঈদ, পূজার ছুটি আর ডিসেম্বর এড়িয়ে চলুন।
  3. দুজন মিলে যান। রুম শেয়ার করলে হোটেলের খরচ প্রায় অর্ধেক হয়ে যায়।
  4. হালকা ব্যাগ হলে শুধু কেবিন ব্যাগের ভাড়া নিন।
  5. ট্যাক্সির বদলে মেট্রো আর বাস ব্যবহার করুন।
  6. যেখানে লোকালরা খায়, সেখানে খান।
  7. ডুয়াল কারেন্সি কার্ড আর কিছু ডলার সাথে রাখুন।

আপনার বাজেট আর তারিখ জানান। ভিসা, টিকিট আর হোটেলসহ পুরো ট্রিপটা আমরা বাজেটের মধ্যে সাজিয়ে দেব। আমাদের Beyond Go প্যাকেজ ঠিক এ ধরনের ট্রিপের জন্যই।

এগুলো সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর WinStar Beyond-এর আনুমানিক হিসাব, বুকিং সাইটে প্রকাশিত ভাড়ার রেঞ্জ আর স্থানীয় খরচের ভিত্তিতে। ভিসার নিয়ম: ঢাকার নেপাল দূতাবাস, থাই ই-ভিসা, মালয়েশিয়া eVISA। সর্বশেষ দামের জন্য আমাদের জিজ্ঞেস করুন। Read in English

আমাদের দিয়ে ট্রিপটা প্ল্যান করাতে চান?

আপনার ট্রিপ সম্পর্কে একটু জানান। আমরা তথ্যগুলো সংরক্ষণ করে হোয়াটসঅ্যাপ খুলে দেব, যাতে আমাদের টিম প্ল্যান ও খরচ জানাতে পারে।

জিজ্ঞেস করতে কোনো ফি নেই। কল করতে পারেন +৮৮০ ১৭৪৪-৮৩৮৩৬৯