সর্বশেষ আপডেট: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শুরুতেই যে কথাটা অনেকে জানেন না: সাধারণ বাংলাদেশি পাসপোর্টে থাইল্যান্ডে অন-অ্যারাইভাল ভিসা নেই। প্লেনে ওঠার আগেই ভিসা লাগবে। ভালো খবর হলো, জানুয়ারি ২০২৫ থেকে পুরো প্রক্রিয়াটা অনলাইনে হয়। পাসপোর্ট জমা দিতে হয় না, গুলশানের ভিসা সেন্টারে লাইনেও দাঁড়াতে হয় না।

সংক্ষেপে

  • আবেদন করবেন শুধু অফিসিয়াল সাইট thaievisa.go.th-এ, অন্য কোথাও না
  • সাধারণত ১০ কর্মদিবসের মতো লাগে, তাই যাত্রার ৩–৪ সপ্তাহ আগে আবেদন করুন
  • ট্যুরিস্ট ভিসায় সাধারণত প্রতিবার সর্বোচ্চ ৬০ দিন থাকা যায়, আপনার ভিসায় কী লেখা আছে দেখে নিন
  • নামার আগের ৩ দিনের মধ্যে অনলাইনে TDAC অ্যারাইভাল কার্ড পূরণ করুন

যা যা লাগবে

  • ৬ মাসের বেশি মেয়াদসহ পাসপোর্ট, অন্তত দুটো খালি পাতা
  • সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডের সাম্প্রতিক ছবি
  • রিটার্ন টিকিটের বুকিং
  • পুরো ট্রিপের হোটেল বুকিং (বা ইনভাইটেশন লেটার)
  • ৬ মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট আর আপনার ব্রাঞ্চের সলভেন্সি সার্টিফিকেট
  • দেশে ফেরার কারণের প্রমাণ: অফিসের NOC ও ছুটির চিঠি, ব্যবসা থাকলে ট্রেড লাইসেন্স, বা স্টুডেন্ট আইডি

ব্যাংক ব্যালেন্স নিয়ে একটা কথা: থাইল্যান্ডের প্রচলিত ন্যূনতম পরিমাণ জনপ্রতি ২০,০০০ বাথ, মানে প্রায় ৳৭৫,০০০। এটাকে সর্বনিম্ন সীমা ভাবুন, লক্ষ্য না। গত সপ্তাহে হঠাৎ জমা হওয়া বড় অঙ্কের চেয়ে আপনার স্বাভাবিক লেনদেনের একটা স্থির স্টেটমেন্ট অনেক ভালো কাজ করে।

আবেদন যেভাবে করবেন

১. অ্যাকাউন্ট খুলুন। thaievisa.go.th-এ গিয়ে দেশ হিসেবে Bangladesh আর ঢাকার Royal Thai Embassy বেছে নিন, তারপর Tourist Visa সিলেক্ট করুন।

২. ফর্ম পূরণ করুন। পাসপোর্টে যেভাবে লেখা আছে ঠিক সেভাবে, নামের বানান আর জন্মতারিখসহ। সাইট যে সাইজ আর ফরম্যাট চায়, সেভাবেই প্রতিটা ডকুমেন্ট আপলোড করুন। মোবাইলে তোলা ঝাপসা স্ক্যান দেরির একটা বড় কারণ।

৩. ফি দিন। বাংলাদেশ থেকে থাই সাইটে কার্ড দিয়ে পেমেন্ট হয় না। সিস্টেম একটা পেমেন্ট সামারি দেবে, সেটা দিয়ে অনুমোদিত ব্যাংকের লিংকে টাকা দিতে হয়। The Daily Star-এর খবর অনুযায়ী এটা Commercial Bank of Ceylon-এর থাই ই-ভিসা পেজ। কাউন্টারে নগদ টাকা নেওয়া হয় না। রসিদটা রেখে দিন।

৪. অপেক্ষা করুন। সাধারণত ১০ কর্মদিবসের মতো লাগে, তবে ঈদের আগে আর ডিসেম্বরে বেশি সময় লাগে। দূতাবাস কিছু চাইলে যেন মিস না হয়, তাই ইমেইল (স্প্যাম ফোল্ডারসহ) চেক করতে থাকুন।

৫. অনুমোদিত ই-ভিসা প্রিন্ট করুন আর পাসপোর্টের সাথে রাখুন।

যাওয়ার আগে: TDAC

থাইল্যান্ড পুরনো কাগজের অ্যারাইভাল কার্ডের বদলে এখন Thailand Digital Arrival Card (TDAC) চালু করেছে। এটা ফ্রি, অফিসিয়াল ইমিগ্রেশন সাইটে (tdac.immigration.go.th) পাঁচ মিনিটের মতো লাগে। নামার আগের ৩ দিনের মধ্যে পূরণ করুন, আর কনফার্মেশনটা ফোনে রাখুন।

সুবর্ণভূমি বা ডন মুয়াং এয়ারপোর্টে

প্রিন্ট করা ভিসা, রিটার্ন টিকিট আর হোটেল বুকিং হাতের কাছে রাখুন। ইমিগ্রেশন অনেক সময় জিজ্ঞেস করে কতদিন থাকবেন আর সাথে কত টাকা আছে। ছোট আর পরিষ্কার উত্তর দিন।

যে কারণে ভিসা রিফিউজ হয়

  • দুর্বল বা সন্দেহজনক ব্যাংক স্টেটমেন্ট, বিশেষ করে আবেদনের ঠিক আগে বড় জমা
  • দেশে ফেরার কোনো প্রমাণ নেই: চাকরির চিঠি বা ব্যবসার কাগজ নেই
  • পড়া যায় না এমন আপলোড
  • বিভিন্ন কাগজে নাম বা তারিখের অমিল
  • আগে কোথাও ভিসার মেয়াদের বেশি থাকার রেকর্ড

সাধারণ প্রশ্ন

বাংলাদেশিরা কি থাইল্যান্ডে অন-অ্যারাইভাল ভিসা পায়?

না। সাধারণ পাসপোর্টধারীদের আগে থেকেই ভিসা নিতে হয়, আর ই-ভিসাই এখন স্বাভাবিক পদ্ধতি।

ঢাকা থেকে কতদিন লাগে?

পেমেন্টের পর সাধারণত ১০ কর্মদিবসের মতো। হাতে ৩–৪ সপ্তাহ সময় রাখুন।

একা করতে না চাইলে জমা দেওয়ার আগে আমরা প্রতিটা ডকুমেন্ট চেক করে দেব, আর একই সাথে টিকিট আর হোটেলও বুক করে দিতে পারি।

তথ্যসূত্র: থাই ই-ভিসা (অফিসিয়াল), The Daily Star, TDAC অফিসিয়াল FAQ। নিয়ম ও ফি বদলাতে পারে, আবেদনের আগে অফিসিয়াল পোর্টালে মিলিয়ে নিন। Read in English

আমাদের দিয়ে ট্রিপটা প্ল্যান করাতে চান?

আপনার ট্রিপ সম্পর্কে একটু জানান। আমরা তথ্যগুলো সংরক্ষণ করে হোয়াটসঅ্যাপ খুলে দেব, যাতে আমাদের টিম প্ল্যান ও খরচ জানাতে পারে।

জিজ্ঞেস করতে কোনো ফি নেই। কল করতে পারেন +৮৮০ ১৭৪৪-৮৩৮৩৬৯